হজ নির্দেশিকা: ধাপে ধাপে হজ পালনের নিয়ম, করণীয় ও দোয়া

হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ। হজের মূল কার্যক্রম ৮ জিলহজ থেকে শুরু হয়ে ১২ বা ১৩ জিলহজ পর্যন্ত মিনা, আরাফাত ও মুযদালিফায় ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অনেক হাজি হজে তামাত্তু পালন করেন, যেখানে প্রথমে ওমরাহ সম্পন্ন করে পরে নতুন ইহরামে হজের আমল শুরু করা হয়।

হজের সফর অন্য সাধারণ সফরের মতো নয়। এখানে কোথায় যেতে হবে, কখন যেতে হবে, কোন কাজ আগে বা পরে করতে হবে—প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে ইবাদতের বিধান জড়িত। প্রথমবার হজে গেলে তাই অনেক প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। ইহরাম কখন বাঁধব? ৮ জিলহজ কী করব? আরাফাতে কতক্ষণ থাকতে হবে? মুযদালিফায় কী করতে হয়? কোরবানি, চুল কাটা, তাওয়াফ ও সাঈ কোন ক্রমে হবে?

এই হজ নির্দেশিকায় পুরো বিষয়টি দিন ধরে সাজানো হয়েছে। সঙ্গে আছে কুরআন ও হাদিসের দলিল, প্রয়োজনীয় আরবি দোয়া ও বাংলা অর্থ। হজের প্রস্তুতির পাশাপাশি সেরা হজ্জ এজেন্সি বেছে নেওয়ার সময় কোন বিষয়গুলো দেখা উচিত, সেটিও জানা জরুরি। নিচের মূল ধাপগুলো হজে তামাত্তু অনুসারে বোঝানো হয়েছে। হজে কিরান ও ইফরাদে কিছু নিয়ম আলাদা হতে পারে।

হজ নির্দেশিকা ধাপে ধাপে হজ পালনের নিয়ম করণীয় ও দোয়া হজের প্রস্তুতি শুরু করুন

হজ কী এবং হজের প্রধান ৩টি ফরজ

হজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত। নির্দিষ্ট সময়ে ইহরাম গ্রহণ করে কাবা শরীফ, মিনা, আরাফাত ও মুযদালিফায় নির্ধারিত আমল সম্পন্ন করাকে হজ বলা হয়। সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ ফরজ। আল্লাহ তাআলা বলেন—

“وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا”

অর্থ: “মানুষের মধ্যে যে সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, আল্লাহর জন্য এই ঘরের হজ করা তার ওপর অবশ্য কর্তব্য।” —সূরা আলে ইমরান, ৩:৯৭

সামর্থ্য বলতে শুধু হজের খরচ হাতে থাকা বোঝায় না। শারীরিক সক্ষমতা, যাতায়াতের সুযোগ এবং নিজের অনুপস্থিতিতে নির্ভরশীল পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত।

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী হজের প্রধান ফরজ তিনটি। এর কোনো একটি বাদ পড়লে হজ সহিহভাবে সম্পন্ন হয় না। বাংলাদেশি হাজীদের জন্য হজের নিয়ম ব্যাখ্যা করার সময় এই তিনটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি।

  • ইহরাম গ্রহণ: হজের নিয়ত করে তালবিয়ার মাধ্যমে ইহরামে প্রবেশ করা।
  • আরাফাতের ময়দানে অবস্থান: ৯ জিলহজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আরাফাতের সীমানায় অবস্থান করা। এটিই হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন।
  • তাওয়াফে জিয়ারত বা তাওয়াফে ইফাদা: আরাফাতে অবস্থানের পর নির্ধারিত সময়ে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা।
হজের প্রস্তুতি শুরু করুন

সঠিক গাইড ও সহায়তার মাধ্যমে আপনার হজ যাত্রাকে করুন সহজ ও শান্তিপূর্ণ।

আজই কল করুন: ০১৭১০৬৬৭৩৩৪
০১

প্রথম ধাপ: হজে তামাত্তুর জন্য ওমরাহ পালন

হজে তামাত্তু পালনকারী প্রথমে ওমরাহর ইহরাম গ্রহণ করে মক্কায় প্রবেশ করেন। ওমরাহ শেষ করে ইহরাম থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকেন। এরপর ৮ জিলহজ আবার হজের নিয়তে ইহরাম গ্রহণ করেন। সহিহ মুসলিমের বর্ণনাতেও সাহাবিদের ওমরাহ শেষে ইহরামমুক্ত হয়ে ৮ জিলহজ পুনরায় হজের ইহরাম গ্রহণের কথা এসেছে।

১. ওমরাহর নিয়ত ও ইহরাম

মিকাত অতিক্রমের আগেই ওমরাহর প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ইহরাম গ্রহণ করুন। নিয়ত মূলত অন্তরের সংকল্প। তাই কোনো নির্দিষ্ট দীর্ঘ আরবি বাক্যকে “ওমরাহর বাধ্যতামূলক নিয়তের দোয়া” মনে করার প্রয়োজন নেই।

ওমরাহর নিয়ত করার পর তালবিয়া পাঠ করুন।

২. তালবিয়া পাঠ

“لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ”

উচ্চারণ: লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান-নি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি হাজির। আমি হাজির। আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা, সকল নিয়ামত ও রাজত্ব আপনারই। আপনার কোনো শরিক নেই।

এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বর্ণিত তালবিয়া। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫৪৯।

৩. কাবা শরিফ তাওয়াফ

মসজিদুল হারামে প্রবেশ করে ওমরাহর তাওয়াফ হিসেবে কাবা শরিফের চারপাশে সাত চক্কর সম্পন্ন করুন। হাজরে আসওয়াদের দিক থেকে তাওয়াফ শুরু হবে এবং প্রতিটি চক্কর একই স্থানে এসে পূর্ণ হবে।

ওমরাহর জন্য কাবা শরিফ তাওয়াফ

তাওয়াফের প্রতিটি চক্করের জন্য আলাদা নির্দিষ্ট দোয়া পড়া বাধ্যতামূলক নয়। কুরআনের দোয়া, জিকির অথবা নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারেন।

৪. সাফা-মারওয়ার সাঈ

তাওয়াফের পর সাফা থেকে সাঈ শুরু করুন এবং মারওয়ায় শেষ করুন। সাফা থেকে মারওয়া এক পর্ব এবং মারওয়া থেকে সাফা আরেক পর্ব হিসেবে মোট সাত পর্ব সম্পন্ন হবে। সহিহ হাদিসে তাওয়াফের পর সাফা-মারওয়ার সাঈ করার বর্ণনা পাওয়া যায়।

৫. চুল মুণ্ডন বা ছোট করা

সাঈ শেষ হলে পুরুষরা মাথা মুণ্ডন অথবা চুল ছোট করবেন। নারীরা মাথা মুণ্ডন করবেন না; চুলের ডগা থেকে প্রয়োজনীয় অল্প অংশ কাটবেন।

চুল কাটা বা মুণ্ডনের মাধ্যমে হজে তামাত্তুর ওমরাহ সম্পন্ন হয় এবং হাজী ইহরামের বিধিনিষেধ থেকে বের হয়ে আসেন। এরপর ৮ জিলহজ পুনরায় হজের ইহরাম গ্রহণ করা হবে। ওমরাহ শেষে চুল ছোট করার বৈধতার বর্ণনা সহিহ মুসলিমেও রয়েছে।

হজ্জের গুরুত্ব, ফজিলত ও হজ্জের প্রকারভেদ

একটি মকবুল হজ মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তনের কারণ হতে পারে। হজে শুধু অনেক আমল করা হয় না। এখানে ধৈর্য, ত্যাগ, সংযম এবং আল্লাহর আনুগত্য— সবকিছুর পরীক্ষা হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“مَنْ حَجَّ لِلَّهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ”

অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ করল এবং অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে বিরত থাকল, সে এমন অবস্থায় ফিরে আসে যেন তার মা তাকে সদ্য জন্ম দিয়েছেন। —সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫২১। তাই হজের প্রস্তুতি শুধু ব্যাগ গোছানো নয়। নিজের আচরণও প্রস্তুত করতে হয়।

হজ প্রধানত তিন ধরনের। সহিহ বুখারিতে তামাত্তু, কিরান ও ইফরাদ—তিন ধরনের হজের উল্লেখ পাওয়া যায়। কোনটি আপনার জন্য প্রযোজ্য, তা যাত্রার আগে শরিয়াহ গাইডের কাছ থেকে পরিষ্কারভাবে জেনে নিন।

হজের ধরন কীভাবে পালন করা হয়
হজে তামাত্তু (حج التمتع) প্রথমে ওমরাহ করে ইহরাম থেকে বের হয়ে আসা হয়। ৮ জিলহজ আবার হজের ইহরাম নেওয়া হয়।
হজে কিরান (حج القران) একই ইহরামে ওমরাহ ও হজ করা হয়। মাঝখানে ইহরাম খোলা হয় না।
হজে ইফরাদ (حج الإفراد) শুধু হজের নিয়ত করা হয়। এর সঙ্গে আলাদা ওমরাহ যুক্ত থাকে না।
০২

দ্বিতীয় ধাপ: ৮–১৩ জিলহজ হজ পালনের ধারাবাহিক নিয়ম, করণীয় ও দোয়া

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হজযাত্রীদের মধ্যে হজে তামাত্তু বহুল প্রচলিত। এ পদ্ধতিতে আগে ওমরাহ সম্পন্ন করে ইহরাম থেকে বের হয়ে আসা হয়। এরপর ৮ জিলহজ আবার হজের নিয়তে ইহরাম গ্রহণ করে মূল হজ শুরু হয়। হজের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা চলে ৮ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত পাঁচ দিন। যারা ১৩ জিলহজ পর্যন্ত মিনায় থাকেন, তাদের জন্য আরও একদিন রমি বা কঙ্কর নিক্ষেপের আমল থাকে। নিচে হজে তামাত্তুর ভিত্তিতে দিন ধরে পুরো নিয়ম তুলে ধরা হলো।

৮ জিলহজ: ইহরাম গ্রহণ ও মিনায় অবস্থান

৮ জিলহজকে ইয়াওমুত তারওয়িয়াহ (يوم التروية) বলা হয়। এদিন থেকেই হজের মূল কার্যক্রম শুরু।

হজের ইহরাম গ্রহণ

হজে তামাত্তু পালনকারী মক্কায় যে স্থানে অবস্থান করছেন, সেখান থেকেই হজের নিয়তে ইহরাম গ্রহণ করতে পারেন। গোসল করা, পরিচ্ছন্ন হওয়া এবং পুরুষদের দুই টুকরা ইহরামের কাপড় পরা উত্তম। নারীদের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট রঙ বা ধরনের ইহরামের পোশাক নেই; তারা শরিয়তসম্মত স্বাভাবিক পোশাক পরবেন। নিয়ত অন্তরের বিষয়। এরপর তালবিয়া পাঠ শুরু করুন—

“لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ”

উচ্চারণ: লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান-নি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি হাজির। আমি হাজির। আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা, সকল নিয়ামত ও রাজত্ব আপনারই। আপনার কোনো শরিক নেই। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫৪৯।

৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান

মিনায় গমন

৮ জিলহজ সকালে মিনার উদ্দেশে রওনা হওয়া সুন্নাহ। রাসূলুল্লাহ (সা.) এদিন মিনায় গিয়ে যোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং পরদিন ফজরের সালাত সেখানে আদায় করেন। মিনায় অবস্থানের সময়—

  • বেশি বেশি তালবিয়া পড়ুন
  • কুরআন তিলাওয়াত করুন
  • জিকির ও ইস্তিগফার করুন
  • পরদিন আরাফাতের জন্য শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকুন

রাসূলুল্লাহ (সা.) মিনায় চার রাকাতের সালাত দুই রাকাত করে আদায় করেছেন। তবে প্রত্যেক হাজীর ক্ষেত্রে কসর প্রযোজ্য হবে কি না, তা তার মুসাফির বা মুকিম অবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে। জামাতে সালাত আদায় করলে ইমামের অনুসরণ করবেন।

৯ জিলহজ: আরাফাতের ময়দানে অবস্থান

৯ জিলহজ হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“الْحَجُّ عَرَفَةُ”

উচ্চারণ: আল-হাজ্জু আরাফাহ।

অর্থ: হজ হলো আরাফাত। জামে তিরমিজি, হাদিস ৮৮৯।

৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান

মিনায় ফজরের সালাত আদায়ের পর আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হবেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) সূর্য ঢলে যাওয়ার পর যোহর ও আসরের সালাত আদায় করেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করেন।আরাফাতের সময় অন্য কাজে ব্যস্ত না হয়ে দোয়ার জন্য যতটা সম্ভব সময় রাখুন। নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চান। বাবা-মা, পরিবার, সন্তান এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করুন। নিজের ভাষায়ও আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়।

আরাফাতের দিনের প্রসিদ্ধ জিকির

“لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ”

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সকল প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

আরাফাতে শুধু এই একটি দোয়াই পড়তে হবে—এমন নয়। কুরআনের দোয়া, ইস্তিগফার, দরুদ এবং নিজের প্রয়োজনের দোয়াও করতে পারেন।

৯ জিলহজ সন্ধ্যা: আরাফাত থেকে মুযদালিফায় গমন

সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করুন। এরপর মাগরিবের সালাত আরাফাতে আদায় না করে মুযদালিফার উদ্দেশে রওনা হওয়া রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আমল। তিনি মুযদালিফায় পৌঁছে মাগরিব ও এশা একসঙ্গে আদায় করেন। এরপর সেখানে রাতযাপন করেন। ফজরের সালাতের পর মাশআরুল হারামের কাছে কিবলামুখী হয়ে জিকির ও দোয়া করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

মুযদালিফায় হজযাত্রীদের অবস্থান
“فَإِذَا أَفَضْتُم مِّنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللَّهَ عِندَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ”

অর্থ: “তোমরা যখন আরাফাত থেকে ফিরে আসবে, তখন মাশআরুল হারামের কাছে আল্লাহকে স্মরণ করবে।” —সূরা আল-বাকারা, ২:১৯৮

জামারার কঙ্কর কোথা থেকে সংগ্রহ করবেন?

মুযদালিফায় অবস্থানের সময় অনেকে রমির জন্য ছোট কঙ্কর সংগ্রহ করেন। তবে কঙ্কর অবশ্যই মুযদালিফা থেকেই সংগ্রহ করতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সুবিধামতো বৈধ স্থান থেকেও সংগ্রহ করা যায়। খুব বড় পাথর নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ছোট কঙ্করই যথেষ্ট।

১০ জিলহজ: বড় জামারায় রমি, কোরবানি ও তাওয়াফে ইফাদা

১০ জিলহজ বা ইয়াওমুন নাহর হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন বড় জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ, কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা এবং তাওয়াফে ইফাদাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করতে হয়।

১. জামারাতুল আকাবায় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ

মুযদালিফা থেকে মিনায় এসে শুধু বড় জামারা বা জামারাতুল আকাবায় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সময় বলবেন—

“اللَّهُ أَكْبَرُ”

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার।

অর্থ: আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

জাবির (রা.)-এর বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সা.) ১০ জিলহজ সাতটি ছোট কঙ্কর নিক্ষেপ করেন এবং প্রতিবার তাকবির বলেন। সাধারণ হাজীদের জন্য দিনের সুবিধাজনক ও অনুমোদিত সময়ে রমি করা উচিত। অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে নিজের বা অন্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা ঠিক নয়। বর্তমান হজ ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত গ্রুপ বা কর্তৃপক্ষের সময়সূচি অনুসরণ করাই নিরাপদ।

২. হাদি বা কোরবানি

হজে তামাত্তু ও কিরান পালনকারীর জন্য হাদি বা কোরবানি করতে হয়। বর্তমানে সাধারণত অনুমোদিত ব্যবস্থার মাধ্যমে হাজীরা কোরবানি সম্পন্ন করেন। কোরবানি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী কাজ করা ভালো।

৩. মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা

পুরুষরা মাথা সম্পূর্ণ মুণ্ডন করতে পারেন, যাকে হলক (حلق) বলা হয়। অথবা পুরো মাথার চুল ছোট করতে পারেন, যাকে কসর (تقصير) বলা হয়। মাথা মুণ্ডন করা অধিক ফজিলতপূর্ণ। নারীরা মাথা মুণ্ডন করবেন না। চুলের ডগা থেকে প্রয়োজনীয় অল্প অংশ কাটবেন। এর মাধ্যমে প্রথম তাহাল্লুল সম্পন্ন হয় এবং ইহরামের অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। তবে স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্কের নিষেধাজ্ঞা পূর্ণ তাহাল্লুলের আগে বহাল থাকে।

৪. তাওয়াফে ইফাদা বা তাওয়াফে জিয়ারত

এরপর মক্কায় গিয়ে কাবা শরিফ সাত চক্কর তাওয়াফ করবেন। একে তাওয়াফে ইফাদা বা তাওয়াফে জিয়ারত বলা হয়। এটি হজের মূল আমলগুলোর একটি। তাওয়াফের প্রতিটি চক্করের জন্য আলাদা আলাদা নির্দিষ্ট দোয়া বাধ্যতামূলক নয়। কুরআনের দোয়া, জিকির অথবা নিজের ভাষায় দোয়া করা যায়। একটি সুন্দর কুরআনি দোয়া—

“رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ”

উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাওঁ ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়া কিনা আজাবান নার।

অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। —সূরা আল-বাকারা, ২:২০১

৫. সাফা-মারওয়ার সাঈ

হজে তামাত্তু পালনকারী তাওয়াফে ইফাদার সঙ্গে হজের সাঈ সম্পন্ন করবেন। সাঈ হবে—

  • সাফা থেকে শুরু
  • মারওয়ায় শেষ
  • মোট সাত পর্ব
  • পুরুষরা সবুজ বাতি চিহ্নিত অংশে সামর্থ্য অনুযায়ী দ্রুত চলবেন
  • নারীরা স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবেন

১১ জিলহজ: তিন জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ

১১ জিলহজ থেকে আইয়্যামে তাশরিক-এর রমি শুরু হয়। এদিন তিনটি জামারায় সাতটি করে মোট ২১টি কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। ক্রম হলো—

  1. ছোট জামারা — জামারাতুস সুগরা
  2. মধ্যম জামারা — জামারাতুল উসতা
  3. বড় জামারা — জামারাতুল আকাবা

প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সময় “আল্লাহু আকবার” বলবেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আমল অনুযায়ী ১১ ও ১২ জিলহজের রমি সূর্য ঢলে যাওয়ার পর করা হতো। ছোট ও মধ্যম জামারায় রমির পর কিছুটা সরে দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হয়ে দোয়া করা সুন্নাহ। বড় জামারায় রমির পর সেখানে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ দোয়া না করে চলে আসবেন।

১২ জিলহজ: রমি ও মিনা ত্যাগ

১২ জিলহজও আগের দিনের মতো তিনটি জামারায় সাতটি করে মোট ২১টি কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এরপর চাইলে মিনা ত্যাগ করতে পারেন। একে তাআজ্জুল বলা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

“فَمَن تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَن تَأَخَّرَ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ”

অর্থ: “যে দুই দিনে তাড়াতাড়ি চলে যায় তার কোনো গুনাহ নেই এবং যে বিলম্ব করে তারও কোনো গুনাহ নেই।” —সূরা আল-বাকারা, ২:২০৩। যারা ১৩ জিলহজ পর্যন্ত থাকতে চান, তারা মিনায় অবস্থান করবেন।

১৩ জিলহজ: যারা মিনায় থেকে যাবেন

১৩ জিলহজ মিনায় অবস্থানকারী হাজীরা আবারও তিন জামারায় সাতটি করে মোট ২১টি কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মিনার কার্যক্রম শেষ করে মক্কায় ফিরে আসবেন। ১২ জিলহজ চলে যাওয়া এবং ১৩ জিলহজ পর্যন্ত থাকা—দুটিই শরিয়তে অনুমোদিত।

হজ শেষে বিদায়ী তাওয়াফ বা তাওয়াফুল ওয়াদা

হজের সব কাজ শেষ হওয়ার পর মক্কা ছেড়ে দেশে বা অন্য গন্তব্যে যাওয়ার আগে তাওয়াফুল ওয়াদা বা বিদায়ী তাওয়াফ করা হয়। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,

“عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: أُمِرَ النَّاسُ أَنْ يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِمْ بِالْبَيْتِ، إِلَّا أَنَّهُ خُفِّفَ عَنِ الْحَائِضِ”

উচ্চারণ: আন ইবনি আব্বাসিন রাদিয়াল্লাহু আনহুমা, ক্বালা: উমিরান নাসু আন ইয়াকুনা আখিরু আহদিহিম বিল-বাইতি, ইল্লা আন্নাহু খুফফিফা আনিল হায়িদ।

অর্থ: ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন কাবা ঘরের তাওয়াফই হয় তাদের বিদায়ের আগে শেষ কাজ। তবে ঋতুমতী নারীদের জন্য এ বিধান শিথিল করা হয়েছে। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৭৫৫; কিতাবুল হজ, অধ্যায়: তাওয়াফুল ওয়া'দা।

তাওয়াফ শেষে আল্লাহর কাছে হজ কবুলের দোয়া করুন। আবার বাইতুল্লাহ জিয়ারতের তাওফিক চান। হজ এখানেই শুধু শেষ নয়। হজের পরের জীবনে নামাজ, হালাল-হারাম, মানুষের হক এবং নিজের চরিত্রে হজের শিক্ষা ধরে রাখার চেষ্টা করাই একজন হাজীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তাওয়াফ ও সাঈতে কোন দোয়া পড়বেন?

অনেক দোয়ার বইয়ে তাওয়াফের প্রথম চক্কর, দ্বিতীয় চক্কর, তৃতীয় চক্কর—এভাবে আলাদা আলাদা দোয়া লেখা থাকে। এগুলোকে প্রতিটি চক্করের জন্য বাধ্যতামূলক সুন্নাহ মনে করা ঠিক নয়। কুরআনের দোয়া পড়তে পারেন। জিকির করতে পারেন। নিজের প্রয়োজনের কথা বাংলাতেও আল্লাহকে বলতে পারেন। কুরআনের খুব সুন্দর একটি দোয়া হলো—

“رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ”

অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। —সূরা আল-বাকারা, ২:২০১।

সাফায় পৌঁছে কাবার দিকে মুখ করে আল্লাহর একত্ব ঘোষণা, তাকবির ও দোয়া করার বর্ণনাও জাবির (রা.)-এর দীর্ঘ হজের হাদিসে পাওয়া যায়। —সহিহ মুসলিম, ১২১৮।

হজে তামাত্তু হলে প্রথমে ওমরাহ

হজে তামাত্তু পালন করলে হজের মূল দিন শুরু হওয়ার আগে ওমরাহ সম্পন্ন করা হয়। মিকাত অতিক্রম করার আগেই ওমরাহর নিয়তে ইহরাম নিতে হবে। মক্কায় পৌঁছানোর পর সাধারণ ধারাবাহিকতা হলো—

  1. কাবা শরীফের সাত চক্কর তাওয়াফ
  2. তাওয়াফ শেষে দুই রাকাত সালাতের সুযোগ হলে আদায়
  3. সাফা থেকে মারওয়া পর্যন্ত সাতবার সাঈ
  4. চুল মুণ্ডন বা ছোট করা
  5. ইহরাম থেকে বের হয়ে আসা

সাফা ও মারওয়া সম্পর্কে কুরআনে আল্লাহ বলেন—

“إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ”

অর্থ: “নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।” —সূরা আল-বাকারা, ২:১৫৮

এরপর ৮ জিলহজ পর্যন্ত স্বাভাবিক অবস্থায় থাকবেন। ৮ জিলহজ থেকে শুরু হবে হজের মূল কার্যক্রম।

হজের নিয়ম ও প্রস্তুতি সম্পর্কে জানুন

সঠিক গাইডলাইন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে আপনার হজ যাত্রা করুন সহজ ও শান্তিপূর্ণ।

হজ পরামর্শ নিন

ইহরাম অবস্থায় কী কী করা যাবে না?

ইহরাম শুধু দুই টুকরা কাপড়ের নাম নয়। এটি একটি বিশেষ শরয়ি অবস্থা। তাই ইহরামের পর কিছু বিধিনিষেধ মানতে হয়। সাধারণভাবে সতর্ক থাকবেন—

  • ইচ্ছাকৃতভাবে চুল বা নখ কাটা থেকে
  • সুগন্ধি ব্যবহার থেকে
  • স্বামী-স্ত্রীর যৌন সম্পর্ক ও যৌন আচরণ থেকে
  • শিকার করা থেকে
  • ঝগড়া, গালাগালি ও পাপের কাজ থেকে

আল্লাহ বলেন, হজে রাফাস, পাপাচার ও ঝগড়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পুরুষ ইহরাম অবস্থায় সাধারণ শার্ট, প্যান্ট বা মাথা ঢাকার পোশাক পরবেন না। নারীরা স্বাভাবিক শালীন পোশাক পরতে পারেন। তবে ইহরাম অবস্থায় বিশেষভাবে তৈরি নিকাব ও গ্লাভস না পরার নির্দেশ সহিহ বুখারি ১৮৩৮-এ এসেছে। নারীর পর্দার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রয়োজন হলে নিজের শরিয়াহ গাইডের পরামর্শ নিন।

হজে যাওয়ার আগে যে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার

হজের কয়েক দিন অনেক বেশি হাঁটতে হয়। প্রচণ্ড গরম, বড় ভিড় এবং এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাতায়াতও থাকে। শরীর ও মন—দুটোকেই আগে থেকে প্রস্তুত রাখা ভালো।

  • আত্মিকভাবে প্রস্তুত হন। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিয়ত ঠিক করুন। পুরোনো গুনাহের জন্য তাওবা করুন। কারও হক থাকলে ফিরিয়ে দিন। ঋণ থাকলে সম্ভব হলে পরিশোধ বা পরিশোধের ব্যবস্থা করে যান।
  • হজের মাসআলা আগে শিখুন। শুধু কয়েকটি দোয়া মুখস্থ করলেই যথেষ্ট নয়। ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ, আরাফাত, রমি ও তাওয়াফে ইফাদার নিয়ম অন্তত মৌলিকভাবে জানা দরকার।
  • হাঁটার অভ্যাস করুন। সম্ভব হলে যাত্রার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে নিয়মিত হাঁটুন। নিজের নিয়মিত ওষুধ, প্রয়োজনীয় প্রেসক্রিপশন এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কাগজও সঙ্গে রাখুন।

প্রথমবার হজে গেলে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

প্রথমবার হজে গেলে নতুন পরিবেশ, ভিড় এবং একের পর এক আমলের কারণে কিছু ভুল হওয়া স্বাভাবিক। তবে আগে থেকেই হজের নিয়ম জানা, নির্ধারিত সময় মেনে চলা এবং গাইডের নির্দেশনা অনুসরণ করলে এসব ভুল অনেকটাই এড়িয়ে চলা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ধৈর্য রাখা, ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া এবং তাড়াহুড়া না করা।

  • হজের নিয়ম না শিখে যাওয়া: শুধু দলের সঙ্গে চললেই সব সময় বুঝে আমল করা সম্ভব হয় না। আগে থেকে অন্তত মৌলিক ধাপগুলো জেনে নিন।
  • প্রতিটি স্থানের জন্য বানানো দোয়াকে বাধ্যতামূলক ভাবা: দোয়া বই দেখে পড়তে সমস্যা নেই। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া কোনো দোয়াকে নির্দিষ্ট চক্কর বা নির্দিষ্ট স্থানের আবশ্যিক দোয়া মনে করবেন না।
  • হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কি করা: সুযোগ না থাকলে দূর থেকে ইশারা করাই যথেষ্ট। একটি সুন্নাহ পালনের জন্য অন্য মুসলমানকে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়।
  • আরাফাতের মূল্যবান সময় নষ্ট করা: কয়েক ঘণ্টার এই সময় হজ জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি।
  • পানি ও বিশ্রাম উপেক্ষা করা: অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে গেলে পরের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো ঠিকভাবে করাও কঠিন হয়ে যায়।
  • দল থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া: হোটেলের নাম, গ্রুপ লিডারের ফোন নম্বর এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
  • অফিশিয়াল সময়সূচি না মানা: রমি, পরিবহন ও চলাচলে বড় ভিড় থাকে। তাই নিজের গ্রুপ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করুন।

বাংলাদেশ থেকে হজ যাত্রায় সাইফ হজ্জ ও উমরাহ ট্রাভেলস-এর সেবা

হজের নিয়ম ও মাসআলা জানা যেমন জরুরি, তেমনি পুরো সফরের ব্যবস্থাপনাও আগে থেকে পরিষ্কার থাকা দরকার। ফ্লাইট, ভিসা, মক্কা-মদিনায় আবাসন, পরিবহন এবং হজের দিনগুলোতে গ্রুপ মুভমেন্ট—প্রতিটি বিষয় সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা থাকলে হাজীরা ইবাদতে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। বাংলাদেশের বিশ্বস্ত হজ এজেন্সি হিসাবে সাইফ হজ্জ ও উমরাহ ট্রাভেলস ২০১৪ সাল থেকে হজ ও ওমরাহযাত্রীদের সেবা দিয়ে আসছে। আমাদের হজ লাইসেন্স নং ১১৩৮।

বাংলাদেশের বিশ্বস্ত হজ এজেন্সি সাইফ হজ্জ ও উমরাহ ট্রাভেলস

আমরা হজযাত্রীদের জন্য ভিসা প্রসেসিং, ফ্লাইট, হোটেল বুকিং, পরিবহন এবং শরিয়াহভিত্তিক প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকি। হজ ২০২৭-এর জন্য আমাদের ইকোনমি, স্ট্যান্ডার্ডপ্রিমিয়ামসহ বিভিন্ন হজ প্যাকেজ রয়েছে। প্যাকেজ অনুযায়ী ফ্লাইট, মক্কা-মদিনার হোটেল, খাবার, পরিবহন এবং গাইড সেবায় পার্থক্য থাকতে পারে।

তাই হজ প্যাকেজ বেছে নেওয়ার সময় শুধু মূল্য দেখলেই হবে না। হোটেলের অবস্থান, কতদিন কোথায় থাকা হবে, খাবার ও পরিবহন ব্যবস্থা, মাশায়ের যাতায়াত এবং গাইড সাপোর্ট—এসব বিষয়ও আগে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। হজ ২০২৭-এর প্রস্তুতি ও নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা উপযুক্ত প্যাকেজ সম্পর্কে জানতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

হজ পরামর্শ নিন: ০১৭১০৬৬৭৩৩৪

হজের সঠিক প্রস্তুতি ও আমলই মকবুল হজের ভিত্তি

হজের সফরে সবচেয়ে দরকার তিনটি জিনিস—সঠিক জ্ঞান, ধৈর্য এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসা। কোথায় কোন আমল করতে হবে তা আগে থেকে জানা থাকলে অনেক বিভ্রান্তি কমে যায়। তবে হজ শুধু নিয়মের তালিকা নয়। আরাফাতের কান্না, মিনার ধৈর্য, কাবার তাওয়াফ আর বারবার উচ্চারিত “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক”—সবকিছুই একজন বান্দার আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা।

তাই সফরের আগে নিয়ম শিখুন। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিন। আর হজের পুরো সময় চেষ্টা করুন মনকে এমন কাজে ব্যস্ত রাখতে, যা আপনার হজকে সত্যিকার অর্থে মকবুল হওয়ার পথে নিয়ে যায়।

হজ নিবন্ধন সম্পর্কে জানুন

হজ পালনের নিয়ম ও দোয়া নিয়ে সাধারণ প্রশ্নোত্তর

হজের নিয়ম, দোয়া, ইহরাম, আরাফাত, মুযদালিফা, রমি ও তাওয়াফ নিয়ে নতুন হাজীদের মনে অনেক প্রশ্ন থাকে। নিচে হজ পালনের বিভিন্ন ধাপ নিয়ে সবচেয়ে সাধারণ ও প্রয়োজনীয় কিছু প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর দেওয়া হলো।

৯ জিলহজ বা আরাফাতের দিন হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন নির্ধারিত সময়ে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন। কেউ আরাফাতে অবস্থান করতে না পারলে তার হজ পূর্ণ হয় না। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “হজ হলো আরাফাত।”

না। হজের নিয়ত মূলত অন্তরের দৃঢ় সংকল্প। ইহরাম গ্রহণের সময় আপনি হজ পালনের ইচ্ছা করবেন এবং এরপর তালবিয়া পাঠ শুরু করবেন। কোনো নির্দিষ্ট দীর্ঘ আরবি নিয়তের দোয়া মুখস্থ না থাকলেও হজের নিয়ত সহিহ হবে।

হজে তামাত্তু হলো একই সফরে আগে ওমরাহ এবং পরে হজ পালন করা। প্রথমে ওমরাহ সম্পন্ন করে চুল ছোট বা মুণ্ডন করে ইহরাম থেকে বের হয়ে আসা হয়। এরপর ৮ জিলহজ নতুন করে হজের ইহরাম গ্রহণ করে মিনার উদ্দেশে যাত্রা করা হয়।

আরাফাতে শুধু একটি নির্দিষ্ট দোয়া পড়া বাধ্যতামূলক নয়। এ সময় বেশি বেশি তাওহিদের জিকির, ইস্তিগফার, দরুদ, কুরআনের দোয়া এবং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দোয়া করা যায়। নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত, হিদায়াত ও কল্যাণ চাওয়াও সম্পূর্ণভাবে গ্রহণযোগ্য।

আরাফাতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থানের পর মুযদালিফার উদ্দেশে রওনা হতে হয়। সেখানে মাগরিব ও এশার সালাত আদায়, রাতযাপন, ফজরের সালাত এবং আল্লাহর জিকির করা হজের গুরুত্বপূর্ণ আমলের অংশ। অনেক হাজী এখান থেকে রমির জন্য ছোট কঙ্কর সংগ্রহ করেন, যদিও কঙ্কর শুধু মুযদালিফা থেকেই নিতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই।

১০ জিলহজে প্রথমে বড় জামারা বা জামারাতুল আকাবায় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করা হয়। এরপর হজে তামাত্তু বা কিরানের ক্ষেত্রে কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা এবং তাওয়াফে ইফাদা সম্পন্ন করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী এদিন বা পরে সাফা-মারওয়ার সাঈও করতে হয়।

না। ১২ জিলহজ তিন জামারায় রমি সম্পন্ন করার পর মিনা ত্যাগ করা যায়। আবার চাইলে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত মিনায় থেকে সেদিনও তিন জামারায় রমি করা যায়। কুরআনে উভয় ব্যবস্থারই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ অবস্থায় নারীদের ক্ষেত্রেও বিদায়ী তাওয়াফ বা তাওয়াফুল ওয়া'দার বিধান প্রযোজ্য। তবে কোনো নারী হজ শেষে মাসিক অবস্থায় থাকলে তার জন্য বিদায়ী তাওয়াফে ছাড় রয়েছে। এ বিষয়ে সহিহ বুখারি, হাদিস ১৭৫৫-এ স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়।
Arrow